হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর রাসুল ইসমাইলজাদেহ-দুজাল এবং ইউরেশিয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক আকমারাল তিউলিউবায়েভা সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন।
তিউলিউবায়েভা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ইরানবিদ্যা ও ফারসি ভাষা শিক্ষার পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। ফারসি ভাষা ও বিভিন্ন ক্লাসে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাজাখ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ফারসি ভাষা শেখার প্রতি আগ্রহ রয়েছে।
ফারসি ভাষার এই অধ্যাপক আরও বলেন, তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফারসি ভাষার একটি শিশুতোষ গল্প রুশ ভাষায় অনুবাদ করেছেন। এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল শিক্ষার্থীদের অসাধারণ আগ্রহ। তাঁরা এত গভীর কৌতূহল ও মনোযোগ দিয়ে শব্দ নির্বাচন করছিলেন, যেন তাঁরা কোনো লুকানো গুপ্তধন আবিষ্কার করছেন।
ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর ইউরেশিয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবান সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক ও একাডেমিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য আস্তানা শহরের অন্যতম সম্ভাবনাময় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো এই বিশ্ববিদ্যালয়।
ইসমাইলজাদেহ-দুজাল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদার, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় বৃদ্ধি, যৌথ বৈজ্ঞানিক সভা আয়োজন, গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ইরানের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামো, বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার সুযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিনিময় কর্মসূচি, গবেষণার সম্ভাবনা এবং দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এসব সহযোগিতার ভূমিকা সম্পর্কেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর কাজাখ ভাষায়ও একটি ফারসি শিশুতোষ সাহিত্যকর্ম অনুবাদ করে বই আকারে প্রকাশের প্রস্তাব দেন। এর মাধ্যমে কাজাখস্তানের শিশু ও পরিবারগুলোর কাছে ইরানের শিশুসাহিত্যের সঙ্গে আরও বেশি পরিচিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, কাজাখস্তান ইরানবিদদের একটি সমিতি গঠন করা জরুরি। তাঁর মতে, এই সমিতি অধ্যাপক, গবেষক, অনুবাদক ও ইরানবিদ্যা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের একত্রিত করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে। নিয়মিত সভা আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের সংস্কৃতি, সাহিত্য, শিক্ষা, ইতিহাস এবং অন্যান্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।
ইসমাইলজাদেহ-দুজাল ইরান ও কাজাখস্তানের কবিদের একটি যৌথ সমিতি গঠনের ধারণাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই সমিতির লক্ষ্য হবে দুই দেশের মধ্যে সাহিত্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, দুই দেশের কবিদের সাহিত্যকর্ম পারস্পরিকভাবে অনুবাদ করা, কবিতা সন্ধ্যা ও সাহিত্যসভা আয়োজন এবং যৌথ প্রকাশনা প্রকল্প বাস্তবায়ন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের পাঠকদের কাছে ইরান ও কাজাখস্তানের সমৃদ্ধ সাহিত্যিক ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
সাক্ষাতের শেষে উভয় পক্ষ বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে ফারসি ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণ, ইরানবিদ্যার প্রসার এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও কাজাখস্তানের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে যৌথ প্রকল্পগুলো অনুসরণ ও বাস্তবায়নের ব্যাপারে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানান।
আপনার কমেন্ট